মাদক চোরাচালান চলছে নতুন নতুন কৌশলে

কোনভাবেই দেশে বন্ধ হচ্ছে না মাদক সরবরাহ। নতুন নতুন কৌশলে মাদক চোরাচালান করছে ব্যবসায়ীরা। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। তাদের মতে সমাজে যতদিন মাদকের চাহিদা থাকবে ততদিন যেকোনোভাবেই সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে মাদক নির্মূলে নজরদারি বাড়াতে হবে সীমান্ত এলাকায়।
কলেজ পড়ুয়া দুই বন্ধু লালন ও রনি মোল্লা। রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে মোটরসাইকেলে করে চলে যান কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে যাত্রা করে বেশকটি পুলিশ চেকপোস্টের মুখোমুখি হয় তারা। তল্লাশিও হয়। কিন্তু বিশেষ কায়দায় বাইকের তেলের ট্যাংকের নিচে একটি প্রকোষ্ঠ বানিয়ে রাখা কয়েক হাজার ইয়াবার চালান চোখ এড়িয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর।
পরে বাড়তি সতর্কতা থেকে চাঁদপুরে এসে মোটরবাইকসহ লঞ্চে উঠে তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। গ্রেফতার হয় সদরঘাটে।
গ্রেফতারকৃত একজন বলেন, ‘কক্সবাজারে হোটেলে থাকছি, হোটেল থেকে মাহাজনে গাড়িটা দিছে, উনি গাড়ি সেটিং করে আমাদের দিছে। আমরা শুধু চালায়ে আসছিলাম। পরে লঞ্চ ঘাটে স্যাররা ধরছে।’
গ্রেফতারকৃত অন্য আর একজন বলেন, ‘এই গাড়ি চালিয়ে আনার জন্য ২০ হাজার টাকা দিতো।’
শুধু এই ঘটনায়ই নয়। পাকস্থলীতে করে ইয়াবা পাচারের কৌশলও রপ্ত করেছে এক শ্রেণির মাদক ব্যবসায়ী। আর এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করা হয় শিশু কিংবা কিশোরদের।
এই পদ্ধতিতে ইয়াবার ছোট ছোট পুটলি বানিয়ে পানি দিয়ে গিলে ফেলা হয়। পরে মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া সিরাপ খাইয়ে পায়ু পথে বের করা হয়। এছাড়া কাগজের কার্টনের ভেতর বিশেষ লেয়ার বানিয়ে, ফল কিংবা সবজির ভেতরে করে, কখনো শরীরের স্পর্শ কাতর স্থানে করেও পাচার হচ্ছে ইয়াবা।
ইয়াবা পাচারকারী চক্রের একজন বলেন, ‘আমাদের টিমের বস হচ্ছেন স্বপন ভাই। তাকে আমি ১ বার দেখছি। আমারে মাসে ১৫ হাজার টাকা দিতো এই কাজের জন্য।’
এই অবস্থায় পুলিশ বলছে, গেলো বছরের মে মাস থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে তা চলছে এখনো পর্যন্ত। কিন্তু শুধু এভাবে অভিযান, গ্রেফতার কিংবা বন্দুকযুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে খোদ পুলিশ কর্মকর্তাদের মনেও।
সামাজিক সচেতনতা, এবং চাহিদা কমানোর ধারণার সঙ্গে একমত অপরাধ বিশ্লেষকরাও। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ তাদের। সর্ষের ভেতরের ভূত খোঁজারও তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
পুলিশের তথ্যমতে গেলো এক বছরে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে গ্রেফতার হয়েছে ৩ হাজার আটশ ৭১ জন। মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে প্রায় এক হাজার জনকে। আর বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে একশ ১২ জন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *